প্রচ্ছদ মতামত কৃষি যান্ত্রীকীকরণ কারা করবে?

কৃষি যান্ত্রীকীকরণ কারা করবে?

2621
0

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি:

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক (এমপি) ঘোষণা দিয়েছেন, কৃষিতে ৩ হাজার কোটি টাকার যান্ত্রীকীকরণ করা হবে। কিন্তু এ যান্ত্রীকরণ কারা করবে, তার বিষয়ে সুনিদিষ্ট বক্তব্য আসেনি।

তাহলে আমরা কি ধরে নিবো, যদু, কদুরা পাবে সে দায়িত্ব? তারা কি অদৌ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সে দায়িত্ব পালন করতে পারবে? মাননীয় মন্ত্রী আপনার কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম। মাননীয় মন্ত্রী আপনি একজন কৃষিবিদ, আপনি সব কিছুই জানেন। শুধু মনে করিয়ে দিতে চাই, দেশে কারা পড়ে কৃষি যান্ত্রীকীকরণের শিক্ষা। যদি আপনি ভুলে যান, মনে করিয়ে দিতে চাই আরেকটিবার।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কিছু বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকেই কেবল কৃষি যান্ত্রীকীকরণের শিক্ষা দেওয়া হয়। কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে যদি বলি, প্রতি সেমিস্টারে কেবল কৃষি প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীদেরকেই কৃষি বিষয়ক যন্ত্র সম্পর্কে পড়ানো হয়, সে যন্ত্রগুলো দিয়ে মাঠে ব্যবহারিক করানো হয়। ফ্রিল্ড ট্রিপে নিয়ে যাওয়া। তাই বলছি যান্ত্রীকীকরণের দায়িত্বগুলো কৃষি প্রকৌশলীদের ই দেওয়া যুক্তিযুক্ত।

এখন আসি কৃষি যান্ত্রীকীরণ বলতে আপনি কোন যন্ত্রের কথা বলবেন, পাওয়ার টিলার, ট্যাক্টর, হারভেস্টর, মিনি কম্বাইন হারভেস্টর, ড্রায়ার, রিপার, উইডার সহ শত শত যন্ত্র নিয়েই পড়াশোনা করে থাকি আমরা।

কিন্তু ফিল্ডে আমাদের তেমন কোন বিশেষায়িত চাকুরী নেই। অতীতে যা ছিল তাও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অন্যদের টেকনিক্যাল ক্যাডার সার্ভিস থাকলেও, কৃষি প্রকৌশলীদের নেই। আর আজকে কৃষকের যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, তা কিন্ত কৃষি যান্ত্রীকীকরণের অভাবেই। মাননীয় মন্ত্রী তা কিন্তু আপনি নিজেও জানেন।

কথা কিন্তু এখানেই শেষ নয়, আমাদের দেশে ওভাবে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা গড়ে উঠেনি। যদিও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। ধরেই নিতে পারি, সেইদিন দূরে নয়। যেদিন আমাদের যন্ত্রগুলো আমরাই তৈরি করবো।

বর্তমানে বিদেশ থেকেই আমদানী করা হয় যন্ত্রপাতি। কিন্তু দুঃখের কথা সেসব যন্ত্রের স্পেয়ার পার্টস আমদানী করা হয় না। অনেক সময় ঐ দেশগুলো ইচ্ছা করেই করে না। এটি আমাদের জন্য কত বড় ধাক্কা সেটা আমরা বুঝি।

একটি যন্ত্রের কোন একটি পার্টস নষ্ট হলে, অনেক সময় যন্ত্রটিই ফেলে দিতে হয়। কিন্তু দুঃখের কথা সেসব যন্ত্রের স্পেয়ার পার্টস আমদানী করা হয় না। অনেক সময় ঐ দেশগুলো ইচ্ছা করেই করে না। এটি আমাদের জন্য কত বড় ধাক্কা সেটা আমরা বুঝি।

একটি যন্ত্রের কোন একটি পার্টস নষ্ট হলে, অনেক সময় যন্ত্রটিই ফেলে দিতে হয়। কিন্তু সুখের কথা, আমরা কৃষি প্রকৌশলীরা কিন্তু সে পার্টস গুলোও বানাতে পারি। সে শিক্ষাও আমাদের দেওয়া হয়। কিভাবে ডিজাইন, তারপর মোল্ড, ধাপে ধাপে পার্টস তৈরি করা করা সবকিছুই পড়ানো হয়। তাই বলতে চাই যান্ত্রীকীকরণ যদি করতেই হয়, তাহলে কৃষি প্রকৌশলীদের দিয়েই করতে হবে নয়তো এ টাকা জলে ফেলে দেওয়া ছাড়া কিছুই হবে না।

লেখক: শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরী অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেইল : [email protected]

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন