প্রচ্ছদ জাতীয় পর্বত জয়ের রোমাঞ্চকর গল্প শোনালেন- ইকরামুল হাসান শাকিল

পর্বত জয়ের রোমাঞ্চকর গল্প শোনালেন- ইকরামুল হাসান শাকিল

229
0
ছবি: নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমলুং চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানো পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান ‍শাকিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক: হিমালয়ের ২৩ হাজার ৩৮০ ফুট উচ্চতায় হিমলুং পর্বতশিখরে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছেন ইকরামুল হাসান শাকিল। হিমলুং বিজয় উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও পতাকা-প্রত্যার্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় হিমলুং বিজয়ী অভিযাত্রীদল জাতীয় পতাকা প্রত্যার্পণ করেন আয়োজকদের হাতে। অভিযানের আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর অভিযাত্রীদলের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে পর্বত বিজয়ের রোমাঞ্চকর গল্প শোনান শাকিল এবং আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন,

“মুহিত ভাই যখন চোখে আঘাত পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে রেখে আমি একা যাব- এটা ভাবতেও পারছিলাম না। তিনি যখন শেরপার কাছ থেকে পতাকা বের করে আমাকে দিলেন, তখন মনে হল বাংলাদেশটাই তিনি আমার হাতে দিয়েছেন। আমার কী হবে, আমি ঠিকভাবে ফিরে আসতে পারব কিনা- কিছুই তখন ভাবতে পারছিলাম না”।

সাত হাজার মিটারের হিমলুং পর্বত বিজয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের দুই পর্বতারোহী মুহিত ও শাকিল গত ৫ অক্টোবর ২০১৯ নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। নেপালে তাদের সঙ্গে যোগ দেন পোল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন ও সাউথ আফ্রিকার আরও আটজনের একটি দল।

তিন দিন পরে ৮ অক্টোবর নেপালের কোটো থেকে ট্রেকিং শুরু করে এবং ১২ অক্টোবর ২০১৯ বেস-ক্যাম্পে (১৫,৯১২ ফুট) পৌঁছায়। পর্বতারোহীদ্বয় ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে ক্যাম্প-১ (১৭,৮৮০ ফুট), ক্যাম্প-২ (১৯,৬৮৫ ফুট) এবং ক্যাম্প-৩ (২১,০০০ ফুট) পর্যন্ত আরোহণ করেন।

২৩ অক্টোবর ভোর ৪টায় ক্যাম্প-৩ থেকে দুই শেরপা গাইডকে সাথে নিয়ে প্রচন্ড ঝড়ো বাতাসের মধ্যে বাংলাদেশের দুই পর্বতারোহী চূড়ান্ত-আরোহণ শুরু করেন।

ছবি: ইকরামুল হাসান শাকিল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে পতাকা প্রত্যার্পণ করেন।

কয়েক ঘন্টা পর উড়ন্ত তুষার কণায় এম এ মুহিত চোখে আঘাত পেলে এক শেরপাকে সাথে নিয়ে ক্যাম্প-৩ এ নেমে আসেন। অপর শেরপাকে সাথে নিয়ে ইকরামুল হাসান শাকিল আরোহণ অব্যাহত রাখেন।

খাড়া হিমবাহের দেয়ালে স্থাপিত প্রায় ২,৩৮০ ফুট দীর্ঘ দড়িতে জুমার ক্লাইম্বিং শেষে ২৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে নেপাল সময় সকাল ১০টা ১০মিনিটে ‘হিমলুং’ শীর্ষে আরোহণ করেন বাংলাদেশের ইকরামুল হাসান শাকিল। পর্বতের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে প্রায় সাত মিনিট অবস্থান করেন তিনি।

সাত হাজার মিটারের পর্বত জয়ের অনুভুতি প্রকাশ করে শাকিল বলেন, যখন পর্বতের চূড়া দেখতে পাচ্ছিলাম, তখন খুব ভালো লাগছিলো, কিন্তু শরীরে কোনো শক্তি পাচ্ছিলাম না। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর বাতাসের কারণে ওইখানে দাঁড়িয়ে থাকাও অসম্ভব ছিল। মনে হচ্ছিল, আমি মনে হয় আর ফিরে আসতে পারব না। যখন চূড়ায় পৌঁছালাম তখন আমার চোখে পানি চলে এলো। শেরপা ও আমি দু’জন দু’জকে জড়িয়ে ধরলাম। অনুভূতিটা আসলে প্রকাশ করার মত না।

অভিযানের দলনেতা মুহিত বলেন, “পর্বত সামিট হচ্ছে এক ধরনের উপরি পাওনা। আমি মনে করি আমরা অভিযানগুলোর সময় হিমালয়ের যে রূপ দেখি, প্রকৃতি দেখতে পাই, এটাই অসাধারণ, যেটা সেখানে না গেলে বোঝানো সম্ভব না”।

শাকিলকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, “আমার মতে, সে বাংলাদেশের সেরা পর্বতারোহী। সে এখন এভারেস্ট অভিযানের জন্যও তৈরি। তার সফলতার অংশীদার আমিও।”

সংবাদ সম্মেলন ও পতাকা-প্রত্যার্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, নেপালের রাষ্ট্রদূত ধন বাহাদুর ওলী, আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অফ মার্কেটিং গালীব বিন মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক।

বাংলা মাউন্টেইনারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের পরিচালনায় হিমলুং অভিযানটি যৌথভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে ইস্পাহানি টি লিমিটেড ও আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেড।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন