প্রচ্ছদ ঢাকা বিভাগ ঢাকা শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত: ৭ দফা দাবি ও ৩ দিনের আল্টিমেটাম

শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত: ৭ দফা দাবি ও ৩ দিনের আল্টিমেটাম

125
0
শিক্ষার্থী মুজতবা আহমেদ লাঞ্ছিত হলে মানব-বন্ধন করেন মিরপুর কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস প্রতিবেদকঃ কবি, লেখক, সংস্কৃতি কর্মী, সাহিত্য সমালোচক এবং মিরপুর কলেজের কৃতি শিক্ষার্থী মুজতবা মাহমুদ-কে অন্যায়ভাবে শারীরিক লাঞ্চনার প্রতিবাদে মানবন্ধন পালন করেন কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার ২৫ তারিখে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুজতবা মাহমুদ এর উপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে মিরপুর কলেজের মূল ফটক থেকে সাধারন শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ন একটি মিছিল কলেজ প্রাঙ্গনের দিকে এগিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তারা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং ৩ দিনের আল্টিমেটাম বেধে দেন কলেজ প্রসাশনকে। তাদের আল্টিমেটাম আগামী রবিবার ১২টা নাগাদ শেষ হবে এর মধ্যে দাবি না মানলে সাধারন শিক্ষার্থীরা কর্মসূচী অনুযায়ী তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।

সাধারন শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবিঃ

১. অত্যাচারী মােস্তাফিজুর রহমান সজিবকে কলেজ কর্তৃক স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে। এমনকি পরবর্তীতে যদি এমন ঘটনা অন্য কোন শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের সাথে ঘটে তাহলে সাথে সাথেই তাকে বা তাদেরকে বহিস্কার করতে হবে।

২. এই মােস্তাফিজুর রহমান সজিব কলেজের অন্য কোন সংস্থা বা দল যেমন সামাজিক, রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত থাকলে সেখান থেকেও তাকে বরখাস্ত করতে হবে।

৩. জনসম্মুখে মােস্তাফিজুর রহমান সজিবকে ক্ষমা চাইতে হবে।

৪. নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই যেখানে কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রপন্থি রাজনৈতিক নেতা
থাকতে পারবে না। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে থাকতে পারে তার সকল ব্যবস্থা কলেজ কর্তৃপক্ষের নিতে হবে।

অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে সাধারন শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচী।

৫. শিক্ষককে কখনাে অসম্মানিত বা লাঞ্ছনার শিকার হতে না হয় তার জোরদার আইন কলেজ কর্তৃপক্ষকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬. কলেজে অবশ্যই সিনিয়রদের সম্মান দেখাতে হবে এবং জুনিয়রদের প্রতি সহনশীল হতে হবে।

৭. রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। অপরাধী যেন কোন অবস্থাতে পার পেয়ে না যায় তার সুষ্ঠু কার্যাবলির প্রয়োগ কলেজ কর্তৃপক্ষের থাকতে হবে।

৭ দফা দাবি প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ বলেন, তোমাদের যে দাবিগুলো জানিয়েছ এটা আমি গ্রহন করলাম। গভর্নিং বডির সদস্যদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আগামী ৭২ ঘন্টার ভেতরে তোমাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন করা হবে।

কালের উচ্চারন এর সাধারন সম্পাদক কামরুল বলেন, আসলে যে ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য আমরা ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি শুধু তা নয় বরং মিরপুর কলেজের সকল শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে আমরা এখানে আসছি। আমরা সাংস্কৃতিক যোদ্ধা, কালের উচ্চারনের কর্মী এবং মিরপুর কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের সাথে জড়িত। আমরা আজ এখানে একতাবদ্ধ হয়েছি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের হয়ে নয়, আমরা সবাই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে।

কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি গালিব বলেন, আমরা তোমাদের সাথে একমত পোষন করছি, আগামীতে কলেজের ভাবমূর্তি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকবে। যেকোন ধরনের অপশক্তি আমরা রূখে দিতে সক্ষম যা আমরা অতীতে প্রমান দিয়েছি। আপনাদের দাবিগুলো আমরা মেনে নিচ্ছি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন