প্রচ্ছদ বিনোদন দিলদার একটি জনপ্রিয় নাম

দিলদার একটি জনপ্রিয় নাম

118
0
ছবিঃ দিলদার (সংগৃহীত)

একটি নাম এখনো দর্শক-শ্রোতাদের মনে দাগ কেটে যায়। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা কৌতুক অভিনেতা তিনি। ১৯৪৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার শাহতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় হাস্যরস চরিত্রের মানুষ দিলদার। অবিভক্ত রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও দেশ স্বাধীন হবার পরে ১৯৭৫ সালে ‘কেন এমন হয়’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপরে আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক অভিনয় করে গেছেন অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায়। যার ফলে দিলদার নামটি চলচ্চিত্রাঙ্গনে ভুলে গেলেও জনমনে ঠাই পেয়েছেন তিনি, নিপুন অভিনয়শৈলীর মধ্য দিয়ে নিজের নামটি লিখে গেছেন ইতিহাসের পাতায়।

বৈবাহিক জীবনে দিলদারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন রোকেয়া বেগম। দিলদার-রোকেয়া দম্পতির রয়েছে দুই কন্যা সন্তান। বড় মেয়ের নাম মাসুমা আক্তার ও ছোট মেয়ে জিনিয়া আফরোজ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’তে অভিনয় করেন দিলদার। এছাড়াও চলচ্চিত্র জীবনের দীর্ঘ ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অপ্রতিদ্বন্দ্বী এ কৌতুক অভিনেতার জন্য লেখা হতো আলাদা স্ক্রিপ্ট। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য এক উচ্চতায়। দিলদার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘বীর পুরুষ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলী জীবন সংসার’, ‘অজান্তে’, ‘দূর্জয়’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘বিচার হবে’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’,’গাড়িয়াল ভাই’, ‘অচিন দেশের রাজকুমার’,’প্রেম যুমুনা’, ‘বাশিওয়ালা’, ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’, ‘তুমি কি সেই’, ‘নাচনেওয়ালী’, ‘খাইরুন সুন্দরী’।

তার জনপ্রিয়তার রেশ ধরে চলচ্চিত্র নির্মাতা তোফাজ্জল হক বকুল ১৯৯৮ সালে দিলদার-নূতন জুটিতে ‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমাটি নির্মাণ করেন। ২০০৩ সালে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৩ সালের ১৩ জুলাই তারিখে সর্বস্তরের প্রতিটি মানুষের চোখে অশ্রু ঝরিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দিলদার। পরে তাকে ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত সানারপাড় এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দিলদারের মৃত্যুর পরে একটি সংগঠন তাকে নিয়ে কয়েকবার নানা আয়োজন করলেও পরবর্তীতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পরে জনপ্রিয় এ কৌতুক অভিনেতাকে নিয়ে আর বিশেষ কোনো আয়োজন করা হয়নি। নানান পেশাজীবি মানুষের কাছে দিলদার নামটি জনপ্রিয় হলেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে বরাবরই অবহেলিত।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন