প্রচ্ছদ অপরাধ প্রদীপ-লিয়াকতের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন ভুক্তভোগীরা

প্রদীপ-লিয়াকতের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন ভুক্তভোগীরা

84
0

একের পর এক অভিযোগে কখনো দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহৃত হয়েছেন, আবার কখনো সাময়িক বরখাস্ত। হয়েছে বিভাগীয় মামলাও। কখনো মামলার বাদীকে রাজি করিয়ে, আবার কখনো তদবির করে রেহাই পেয়েছেন কিছু অভিযোগ ও মামলা থেকে।

তিনি টেকনাফ থানার দায়িত্ব থেকে সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৩ বছর দায়িত্ব পালনকালে অর্থের বিনিময়ে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানো, আইনজীবীকে অপহরণ, জায়গা দখল, মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে শিল্পপতিকে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ ছিল প্রদীপের বিরুদ্ধে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর প্রদীপের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা অনেকেই বলছেন, প্রদীপকে আগেই শাস্তির আওতায় আনা হলে হয়তো সিনহা হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের ঘটনা এড়ানো যেত।

এ ছাড়া পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী। সিনহা হত্যা মামলার আসামি লিয়াকতও দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামে দায়িত্বরত ছিলেন।

পুলিশ সদস্যদের অনেকে অপরাধ করেও কেন শাস্তির আওতায় আসেন না, জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় না বলে রেহাই পেয়ে যান তাঁরা। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্যপ্রমাণ না পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা যাতে সঠিক তথ্য দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা উচিত।

টাকা নিয়ে আসামি
ডেকোরেশন ব্যবসায়ী আবু নাছেরের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় কোনো মামলা ছিল না। ২০১৬ সালের ৫ জুন সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করেন চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক প্রদীপ দাশ। নাছেরের দাবি, এলাকায় মাজার নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে
এজাহারে নাম না থাকলেও তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়।

নাছেরকে গ্রেপ্তারের ২০ দিন পর তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সংবাদ সম্মেলন করে জানান, মাহমুদা হত্যায় নাছেরের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পাঁচ মাস কারাভোগের পর তিনি এই মামলায় জামিনে মুক্তি পান। অপরাধী না হয়েও এখনো ধার্য দিনে আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন নাছের। আবু নাছের মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রদীপ এই মামলায় আমাকে জড়ান। কারাগারে হারিয়ে যাওয়া পাঁচটি মাস, হারানো সম্মান কি ফিরিয়ে দিতে পারবেন প্রদীপ?’

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন