প্রচ্ছদ খেলাধুলা ক্রিকেট-বলিউডের এক অমর প্রেমকাহিনী

ক্রিকেট-বলিউডের এক অমর প্রেমকাহিনী

70
0
ছবিঃ সংগৃহীত।

ক্রিকেটের সঙ্গে বলিউডের যোগাযোগ বহু বছরের। যার সর্বশেষ উদাহরণ বিরাট কোহলি আর আনুশকা শর্মা। না এই গল্প বিরুষ্কার নয়। বলিউডের নায়িকার সঙ্গে মোটামুটি সেই প্রথম ক্রিকেটারের প্রেম এবং বিয়ে। বলিউডের মহাতারকা শর্মিলা ঠাকুর আর ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের বড় তারকা নবাব পরিবারের ছেলে মনসুর আলি খান পতৌদি। কীভাবে পরস্পরের কাছে এসেছিলেন তারা?

টাইগার পতৌদির সঙ্গে শর্মিলার আলাপ হয় একটি ক্রিকেট ম্যাচে। ১৯৬৫ সাল। ভারতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন তখন নবাব পতৌদি। আর শর্মিলা বলিউডের গ্ল্যামার কুইন। দিল্লিতে সেই ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন শর্মিলা। ম্যাচের পর একটা পার্টিতে আলাপ হয় দুজনের। দুজনেই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শর্মিলা খুব একটা যে ক্রিকেট বুঝতেন এমনটা নয়, এ দিকে টাইগারও খুব বেশি শর্মিলার ছবি দেখেননি।

টাইগার ছিলেন নবাব বংশের উত্তরাধিকারী, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সুন্দরী, বুদ্ধিমতী শর্মিলা ছিলেন ঠাকুর পরিবারের সন্তান। ভাষা আলাদা, ধর্ম আলাদা, আলাদা দুজনের পেশা। পারিবারিক ঐতিহ্যও একেবারেই আলাদা। কিন্তু প্রেম এসব ব্যবধান কখনই মানে না। তাই একে অপরের প্রেমে পড়ে যান তারা।

দুজন সংবেদনশীল, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষের কথা শুরু হয় বই নিয়ে। এই বিষয়ে দুজনের খুব মিল। দুজনেই বই পড়তে ভালবাসতেন। অক্সফোর্ডের স্নাতক পতৌদির সঙ্গে শর্মিলা কয়েক বছর ডেট করেন। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা আসেনি, এমনটা নয়। কিন্তু দুজনে কেউ কারও পাশে থেকে সরে যাননি। দুই পরিবার যখন রাজি হল, তখন ঘটল আরেক ঘটনা।

শর্মিলার জীবনে কিন্তু সত্যিই ‘ইভনিং ইন প্যারিস’ এসেছিল। প্যারিসে বসে টাইগার পতৌদি বিয়ের প্রস্তাব দেন শর্মিলাকে। ১৯৬৯ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তারা। দুটি ধর্মমতেই বিয়ে করে সংসার বেঁধেছিলেন দুজন। যদিও শর্মিলাকে নাকি ‘আয়েশা বেগম’ নাম নিতে হয়েছিল। এই নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। শর্মিলা যদিও বারবার বলেছিলেন, ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন ঐতিহ্যের পরিবারের সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় পোশাক, খাবারদাবার, রুচি নিয়ে অনেক নতুন দরজা খুলে গিয়েছিল তার কাছে।

সেই সময় একটি ছবির জন্য শর্মিলা বিকিনি পরে শুট করেছিলেন। কিন্তু টাইগার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনোরকম বাধা আসেনি। ‘আরাধনা’, কিংবা ‘অমর প্রেম’ এর মতো সুপারহিট সিনেমাগুলি শর্মিলা করেছিলেন মা হওয়ার পরে। বড় ছেলে সাইফ আলী খানের দায়িত্ব পালন করতে নবাব মনসুর আলী খান পতৌদি সব সময় তার পাশে ছিলেন। কখনই বিয়ের পর অভিনয় ছাড়তে বাধ্য করেননি স্ত্রীকে। শর্মিলা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেছিলেন।

সাইফের পর সারা ও সাবা নামে দুই মেয়েও হয় টাইগার-শর্মিলা দম্পতির। তিন জনেই সুশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। সাইফ বেছে নিয়েছেন মায়ের পেশা। বর্তমানে তিনি তো বলিউডের নামকরা অভিনেতাদের একজন। পতৌদি ২০১১ সালে মারা যাওয়ার পর শর্মিলা বলেছিলেন, তিনি এতটা একা হয়ে যেতে পারেন, তা কখনও ভাবেননি। আজকালের প্রেম তো ভঙ্গুর। কিন্তু মনসুর-শর্মিলার প্রেম এখনও অমর হয়ে আছে, মনসুরের মৃত্যুর পরেও।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ অনলাইন

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন