প্রচ্ছদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেসবুক স্টাটাস কিংবা ব্যানার নয়- কৃষককে যন্ত্র ব্যবহার করতে বলুন

ফেসবুক স্টাটাস কিংবা ব্যানার নয়- কৃষককে যন্ত্র ব্যবহার করতে বলুন

159
4
আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ফসল কাটা হচ্ছে। (ছবি: সংগৃহীত)

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি: শ্রমিক না পেয়ে, শ্রমিকের মজুরী বেশি বলে, ধানের দাম না পেয়ে সারাদেশের কৃষকরা আন্দোলন করছে। তাঁদের সে আন্দলনে যোগ দিয়েছে একদল ছাত্র সমাজ। ফেসবুকে লিখে, ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে কিছু কি কিছু করতে পেরেছেন? দেশের সমস্যার কোন সমাধান কি করতে পেরেছেন? আমি বলবো পারেন নি। কৃষককে বুঝান ধান ক্ষেতে আগুন না দিয়ে, ধান রাস্তায় ধান ফেলে দিয়ে কিছুই হবে না। এতে বর্হিবিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। অন্য দেশগুলো আমাদের নিয়ে ছি ছি করছে।

গত কয়েক দিন ধরেই দেখছি, অনেক শিক্ষার্থী আবার ধান কেটে দিচ্ছেন। একটি পত্রিকায় খবর পড়লাম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষকও স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে দিচ্ছেন। খুব কষ্ট লাগে আপনাদের আহম্মকতা দেখে। লোক দেখানো কাজ বাদ দেন। আপনারা কি বছরের সবসময় এভাবে ধান কেটে বাহবা নিবেন? আপনারা দ্বিতীয় বার যে ধান কাটতে যাবেন না, সেটা সবারই জানা। বরং ঐ কৃষককেই কষ্ট করে কাটতে হবে।

সত্যি কথা বলতে কি, আপনারা কতটুকু প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান রাখেন, প্রশ্ন রেখে গেলাম। দেশে ধান/গম কাটার যন্ত্র রয়েছে। এটির নাম রিপার। এটা দিয়ে কিছুটা হেলে পড়া ধান বা গমও কাটা যায়। জমিতে কিছুট পানি থাকলেও ফসল কাটা যায়। কাটা ধান বা গম ডান পাশে সারিবদ্ধভাবে পড়ে যাতে সহজে আঁটিও বাঁধা যায়। ঘন্টায় প্রায় দুই বিঘা জমির ধান/গম কাটতে পারে যন্ত্রটি। এতে মাত্র ১ জন চালক ও প্রতি ঘন্টায় ১ লিটার পেট্রোল/ ডিজেল লাগে। দিনে ১৬ বিঘা জমির ফসল কাটতে পারে যন্ত্রটি। দাম মাত্র দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সরকার গত কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করেও এমনকি ৫০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত ভর্তুকী দিয়েও এই যন্ত্র কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় করতে পারতেছে না। আপনারা বুঝালে তারা অবশ্যই কিনবে এগুলো। সেটি কি কখনও করেছিলেন আপনারা?

এছাড়াও আছে কম্বাইন হারভেস্টার। ধান কেটে বস্তাবন্দী করে দিতে পারে এ যন্ত্রটি। আছে ড্রায়ার। ধান শুকাতে বড় জায়গার দরকার পড়ে না। বর্ষাকালেও ধান শুকানো যায় এটি দিয়ে। অার মোটকথা এ যন্ত্রগুলো ব্যবহারে কৃষকের ৩০ থেকে ৫৫ ভাগ পর্যন্ত শাশ্রয় হয় ফসলের উৎপাদন খরচ। এটি আমার কথা নয়, বাকৃবির বিজ্ঞানীদের গবেষণার তথ্য।

আসেন আমরা ছাত্র, শিক্ষক সচেতন মানুষ সবাই মিলে যন্ত্রগুলোকে কৃষকের কাছে পরিচিত করতে সাহায্য করি। একজন কৃষকের একার পক্ষে না হোক সমবায় ভিত্তিতে কিনতে বলি। তা না পারলেও ভাড়ায় চালাতে বলি। আবার প্রকৃত কৃষক যেন যন্ত্রগুলি ভর্তুকিতে কিনতে পারে, সে জন্য সরকারকে সহায়তা করি।

আর এই মুহুর্তে সরকারেরও উচিত কৃষি প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের। বিসিএসে টেকনিক্যাল ক্যাডার সার্ভিস টি চালু করে কৃষিতে আধুনিক যান্ত্রীকীকরণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে সে প্রত্যাশাও রাখছি।

লেখক: শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেইল: [email protected]

4 মন্তব্য

  1. Thank you for your blog post. Manley and I are already saving to buy a new book on this theme and your short article has made
    us all to save our own money. Your notions really responded to all our concerns.

    In fact, in excess of what we had known before we
    found your amazing blog. My spouse and i no longer nurture doubts and
    also a troubled mind because you have truly attended
    to the needs above. Thanks

  2. I tend not to leave a response, however I browsed a lot of responses here
    ফেসবুক স্টাটাস কিংবা ব্যানার নয়- কৃষককে যন্ত্র ব্যবহার করতে বলুন | Alpona
    TV. I do have a few questions for you if you don’t mind.

    Could it be only me or do some of the comments look as if
    they are left by brain dead visitors? 😛 And, if you are posting at other social sites, I’d
    like to keep up with anything new you have to post.
    Could you list of all of all your public pages like your linkedin profile, Facebook page
    or twitter feed?

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন