প্রচ্ছদ জাতীয় দ্বিতীয় ডোজের টিকা অনিশ্চিত ১৩ লাখ মানুষের

দ্বিতীয় ডোজের টিকা অনিশ্চিত ১৩ লাখ মানুষের

72
0
দ্বিতীয় ডোজের টিকা অনিশ্চিত ১৩ লাখ মানুষের
দ্বিতীয় ডোজের টিকা অনিশ্চিত ১৩ লাখ মানুষের

প্রথম ডোজ পাওয়া অনেকে আপাতত দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাবেন না। এতে টিকাব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানোর আশঙ্কা আছে।

সরকার প্রথম ডোজের টিকা নাদেওয়ার  সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রথম ডোজ নেওয়া ১৩ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজের টিকাও। এর মধ্য দিয়ে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশে গণটিকাদান শুরু হওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় টিকা কর্মসূচি কিছুটা এলোমেলো হতে দেখা যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষক মহল ও জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করেন, ভারত থেকে পাওয়া টিকার মজুত ফুরিয়ে আসার পাশাপাশি আমদানি ও সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, সরকার টিকার জন্য ভারতের ওপর বেশি নির্ভরতা দেখিয়েছে। সরকার বিকল্প উৎসের ব্যাপারে কম মনোযোগী ছিল। টিকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতিও রয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের টিকা কম পড়ার ঝুঁকি অনেক আগে ধরা পড়লেও সরকার প্রথম ডোজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেরি করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, আজ সোমবার থেকে সারা দেশে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া বন্ধ থাকবে। গতকাল দুপুরে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পক্ষ থেকে দেশের সব সিভিল সার্জন, সব সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত যাঁরা নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের সবাই প্রথম ডোজ টিকা পাবেন না। তবে নিবন্ধন বন্ধ থাকার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. নাজমুল ইসলাম।

মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী টিকা ব্যবহার শুরু হওয়ার আগে থেকে টিকা উৎপাদন ও সরবরাহে সম্ভাব্য সংকটের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্বশেষ টিকা পরিস্থিতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সায়েদুর রহমান বলেন, ‘টিকা দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের এমন প্রতিটি দেশে দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করেই প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বড় ধরনের ব্যত্যয় দেখা দিতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ডোজ টিকা না পেলে বেশ কয়েক লাখ মানুষ বঞ্চনাবোধে ভুগবেন।’

এরই মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ জন। তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৬ জন। আজ থেকে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হওয়ায় আপাতত টিকার বাইরে থাকছেন নিবন্ধিত ১৪ লাখের বেশি মানুষ। আর ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ জনের দ্বিতীয় ডোজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজারের এক লাখ টিকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ২০ লাখ টিকার মতো ঘাটতি আছে, তা–ও পাওয়া যাবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশা করছে। অবশ্য গতকাল রোববার বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ডের টিকার পরের চালান কবে আসছে, তা নিশ্চিত নয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য যুক্ত করুন
আপনার নাম লিখুন