প্রচ্ছদ দেশজুড়ে খুলনা বিভাগ লালমনিরহাট হাসপাতালে ঘুমাচ্ছে কুকুর চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগীরা

লালমনিরহাট হাসপাতালে ঘুমাচ্ছে কুকুর চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগীরা

18
0

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: হাসপাতালে ঢুকতেই দেখা মিলে সেই আরাম করে ঘুমাচ্ছে একটি কুকুর তাও আবার হাসপাতাল টিকেট কাউন্টারের সামনে, মনে হচ্ছে হাসপাতাল নয় যেন কোন ডাস্টবিন পাহারা দিচ্ছে  এই কুকুর টি।হাসপাতালে ঢুকলে মনে হবে যেন কোন পরিত্যাক্ত ভবনে প্রবেশ করেছেন আপনি। কতোটা অবহেলা  করা হলে একটা চিকিৎসা কেন্দ্রের এই হাল হয় তা দেখলেই বুঝা যায়।

অনিয়ম আর দুর্নীতিতে নাজেহাল অবস্থা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট  লালমনিরহাটের সদর হাসপাতালটির। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা  এখানে আসলে নিজেই  অসুস্থ হয়ে পরেন। জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রথমে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা
শুরু করা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

নাজেহাল হচ্ছে করোনা রোগীরা একে পর্যাপ্ত ভাবে নেই অক্সিজেন – তার উপড়ে আবার  বাড়তি   খরচের চাপ।  রোগীদের নেই পর্যাপ্ত পরিচর্যা , নেই পর্যাপ্ত ওয়ার্ড  বয়, সুইপার।

সরেজমিনে দেখা যায় হাসপাতালের যেখানে সেখানে পরে আছে মাস্ক হ্যান্ড গ্লোবস,রোগীরা পাচ্ছেন না উন্নত চিকিৎসা,  রোগীদের দেয়া হচ্ছে বাসী খাবার, রোগীদের খাবারের যে বাজেট সরকার দিয়েছেন তার ছিটে পরিমাণ পায় রোগীরা
যেখানে দেয়ার কথা চিকন চাল সেখানে দেয়া হচ্ছে মোটা   চালের ভাত, তরল পাতলা ডাল আর সিল্ভার কার্প মাছ।
ভুক্ত ভোগীরা জানান নার্স এবং ডাক্তারদের ইচ্ছা মত চলতে হয় এখানে।রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে  হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক মফিজুল  এর কাছে গেলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে নারাজ তিনি । তিনি বলেন যা  ইচ্ছা করেন আপনারা। আপনাদের সাথে  কথা বলতে আমি বাধ্য নই উপর থেকে নিষেধ আছে আমি কোন  সাক্ষাৎকার আমি দিতে পারবোনা। তিনি কর্মরত সাংবাদিক কে বলেন আমরা যদি দুর্নীতিবাজ চোর হই
, আপনারাও   চোর  আপানারাও  টাকা  খান ।

যে কোন জরুরী প্রয়োজনে  পাওয়া যায়না কোন ডক্টর , নার্স দের পর্যাপ্ত ডাক্তার চিকিৎসা সামগ্রী । ভাল সুবিধা পেতে দিতে হয় ঘুষ।নানান সংকট ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রুগ্ন হয়ে পড়েছে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল। অপারেশন বা জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেখানে রোগীরা সহায় সম্পদ বিক্রি করে মিটাচ্ছেন ক্লিনিকের খরচ। ছিন্নমূল গরিব ও দুস্থরা উন্নত চিকিৎসার অভাবে পারি জমাচ্ছেন পরপারে।

এখনো ঝুলে আছে ৩ বছর আগের  কোটি টাকার ঔষধ চুরির মামলা ,সব মিলিয়ে দুর্নীতির চরম শিখরে  আছে  এই হাসপাতালটি । পা চেপে রক্তের ব্যাগ ভর্তি , এক রক্তের গ্রুপ অন্য ব্যাক্তির  শরীরে দেয়া যা তার নিজের গ্রুপের সাথেই মিলে না ,চরম দুর্নীতির  একাধিক নজীর আছে  এই হাসপাতালের। একাধিকবার মানব বন্ধন করেও সুফল পায়নি লালমনিরহাট বাসী। এলাকাবাসী দাবী  জানান খুব দ্রুত এই হাসপাতালটিকে যেন মানুষের সেবার উপযোগী করে দেয়া হয়।

সুফিয়ান আল হাসান/মাহা